গুলজার আহমেদ ওয়ানি’-বিনা অপরাধে ১৬ বছর জেলবন্দী। কারণ-সে কিনা সন্দেহজনক মুসলমান সন্ত্রাসবাদী। ২০০১ সালে ২৮ বছর বয়সে সন্দেহ করে এই কাশ্মীরী যুবকটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ দিল্লী থেকে আটক করে জেলে ঢুকিয়ে দিল। ১৬ বছর আটক রেখে ১১ টি মামলা করেও কোনটিতে দোষী প্রমাণিত করতে পারেনি। ৯৬ জন স্বাক্ষীকে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১৬ বছর লেগেছে!
গুলজার আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পি এইচ ডি করছিল। গত ২০ মে মুক্তি পেল। এখন তাঁর বয়স ৪৫ বছর। যৌবন গেল জেলে বিনা অপরাধে। সে দেশের ব্যাবস্থাপনাকে শ্রদ্ধা করবে? কোন ব্রাহ্মণ্যবাদীর প্রতি তাঁর মায়া হবে?
ভারতের হিন্দু মুসলমানদের এই অবিশ্বাসের পিছনে ধর্ম থেকে রাজনীতি বেশি দায়ী । রাজনীতির স্বার্থে ধর্মকে বেশি ব্যবহার করেছেন ব্রাহ্মণ্যবাদীরা। মুসলমানরা প্রথমে কিন্তু মনুদের ততটা শত্রু ছিলনা যতটা না ছিলো বৌদ্ধ ও নিন্ম বর্ণের হিন্দুরা। ইতিহাসের বিকৃত ব্যাখা মিথ্যা প্রচার বা প্রকৃত সত্যটা জানার অনিচ্ছা এই পরিস্থিতিটা তৈরি করেছে। মুসলমান শাসকদের এরা ব্যবহার করেছেন দলিতদের হেয় করে রাখার জন্যে।
১৮৯৩ সালের হিন্দু মুসলমান পুনে দাঙ্গার পূর্বে ভারতে কোথাও হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে খারাপ সম্পর্কের কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই বরং ভালোই ছিলো বলা যায়। পুনে দাঙ্গার পিছনেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদের একটা গভীর ষড়যন্ত্র ছিলো । দলিত ও মুসলমানদের মধ্যে দেওয়াল তৈরী করে দলিত হিন্দুদের তাদের দিকে টানা ।
ব্রাহ্মণ্যবাদীদের মূল হাতিয়ার হচ্ছে ওদের প্রচার তন্ত্র । যুগ যুগ ধরে মিথ্যা প্রচার করেছে ওরা । শিক্ষিত হওয়ার কারণে অশিক্ষিত নিন্ম বর্ণের হিন্দুদের মিথ্যার প্রচারের আশ্রয় নিয়ে দাবিয়ে রেখেছে।
১৯২৫ সালে আর এস এস গঠনের পর থেকে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের মূল লক্ষ্য হয়ে মুসলিমরা। তার কারণ এরা জানত এদের অত্যাচারে বহু দলিত মুসলমান হয়ে আত্ম রক্ষা করেছে । মুসলমান যে জোর জবরে হয়নি সেটা ওরা ভালোই জানে।
এই প্রসঙ্গে স্বামীজির একটি উক্তি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ- “মুসলমানদের ভারতাধিকার দরিদ্র পদদলিতদের উদ্ধারের কারণ হইয়াছিল। এ দারিদ্র্য ও অবহেলার জন্যই আমাদের এক পঞ্চমাংশ লোক মুসলমান হইয়া গিয়াছে। কেবল তরবারি ও অগ্নির কথা বলে ইহা সাধিত হইয়াছিল, একথা মনে করা নিতান্ত পাগলামী।” (ভারতের ভবিষ্যৎ । ঐ । বিবেকানন্দ রচনা সমগ্র)
‘WHO KILLED KARKARE?,’নামক বইতে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন আই জি এম এস মুসরিফ বলেছেন – IB is more Brahminist than RSS. -.. IB carring out RSS agendas. -এবং Brahminist control media.
মুসরিফের এই বক্তব্য গুলোর সঙ্গে যেকোন রাজনৈতিক সচেতন শীল মানুষ একমত হবেন।
দেশটা প্রকৃত অর্থে কতটুকু ধর্ম নিরপেক্ষ সেটা ভাবি। ১৯৯৪ সালের ১৮ মার্চ The Telegraph পত্রিকায় ও ২৭ মার্চ The sunday তে বলা হয়েছে ভারতের আই বি তে কোন মুসলমান অফিসার নেই। এরাই তো কে ভাল, বা কে উগ্রপন্থী ঠিক করে দিচ্ছেন।
গুলজারদের যখন সন্ত্রাসী বলে বিনা বিচারে ১৬ বছর জেলে রেখে দেওয়া হয়-তখন মুসরিফের বক্তব্য গুলোকে অমূলক মনে হয়? তথ্য সুত্র -:- TDN বাংলা
