Profile

সোমবার, ৫ জুন, ২০১৭

ঢাকায় এক কিশোরী ৭ মাসে দ্বিতীয়বার ‘অপহৃত’ - ভয়েস অফ বাংলাদেশ


মেয়ের সন্ধান চেয়ে জাহেদা বেগমের কান্না
রাজধানীর ভাটারায় প্রথমবার অপহরণের সাত মাসের মাথায় এক কিশোরী দ্বিতীয়বার অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার মা।

দ্বিতীয়বার অপহরণের দুই মাস পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই কিশোরীকে উদ্ধার বা অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

অপহরণকারীরা এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও ওসির ‘নিষেধের’ কারণে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের গ্রেপ্তার করছেন না বলে অভিযোগ কিশোরীর মা জাহেদা বেগমের।

তবে ভাটারা থানার ওসি নুরুল মোত্তাকীন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, মামলার আসামি মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী (২৪) নামে ওই যুবকের পরিবারও তাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

ওই কিশোরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলেসা বিবি মেমোরিয়াল হাই স্কুলের হিসাবরক্ষক শফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে গত ২৬ মার্চ স্কুলের একটা অনুষ্ঠান শেষে অপহরণ করা হয় বলে তারা শুনেছেন। তারাও মেয়েটির সন্ধান চান।

জাহেদা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রথমবার অপহরণের পর দায়ের করা মামলাটি তুলে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দ্বিতীয়বার তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মামলা তুলে নেওয়া না হলে তার মেয়েকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

এই কিশোরীকে গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার পথে বাপ্পীসহ কয়েকজন যুবক অপহরণ করে তিন দিন আটকে রেখেছিল বলে জাহেদা জানান।

তিনি বলেন, পরে পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠিয়েছিল তার মেয়েকে।

তখন ভাটারা থানায় বাপ্পীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি বলেই এই যুবক দ্বিতীয়বার অপহরণের সাহস দেখিয়েছে বলে মনে করেন জাহেদা।

“এখন তাদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে না নিলে আমি কোনোদিন মেয়ের মুখ দেখতে পারব না (হত্যার) বলে হুমকি দিচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের কোনোভাবেই ধরছে না।”

গত ২৬ মার্চ বিকালে মেয়েটিকে বাপ্পী আবার অপহরণ করেন বলে জানান জাহেদা; এরপর এখনও তার সন্ধান পাননি।

৩০ মার্চ ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন জাহেদা। থানার এসআই জিয়াউদ্দিন ঘটনাটি তদন্ত শেষ করলে ১৯ মে ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন জাহেদা।

মামলায় বাপ্পী ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন বাপ্পীর মা আয়েশা বেগম (৫৫), ছোট ভাই আশিকুর রহমান (২০), খালা রাশি বেগম (৩৫), বন্ধু রায়হান (২৩) ও মো. সিরাজুল ইসলাম (৪০)।

এই থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিনকে জরিমানা গুণতে হচ্ছে


ওসি নুরুল মোত্তাকীন বলেন, “এর আগের মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মামলা তদন্তের সময় অনেক চেষ্টা করেও আসামি বাপ্পীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

জাহেদা বলেন, তার এক আত্মীয়ের বাসায় ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় তার মেয়েকে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল বাপ্পী।

“আমরা রাজি না হলে বাপ্পী মোবাইলে জেরিনের একটি ছবি তুলে তা বিকৃত করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। সে প্রতিদিন স্কুল ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে মোবাইলে থাকা ছবিটি জেরিনকে দেখাত। এতে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিল আমার মেয়ে।”

দ্বিতীয়বার অপহরণের পরও আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও ওসির কারণে আসামিদের ধরা হচ্ছে না বলে জাহেদার অভিযোগ।

“থানায় বারবার গেলেও আমার মেয়ের কোনো সন্ধান দিতে পারছে না পুলিশ। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে- পুলিশকে এমন খবর জানালেও ওসি আসামিদের ধরতে দিচ্ছেন না।”

তবে ওসি মোত্তাকীন বলেন, “বাপ্পীর মা আয়েশা বেগমকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, তার ছেলেকে তারাও খুঁজে পাচ্ছেন না। মেয়েটি ও বাপ্পী কোথায় আছে, পুলিশ সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।”

ওসি উল্টো বলেন, মেয়েটিই তার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে বাপ্পীদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

তবে জাহেদা বলেন, তার মেয়ে তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি।

“সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে বাপ্পী মোবাইলে ফোন করে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলে। মামলা না তোলা হলে আমার মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয় সে।”

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন