Profile

রবিবার, ২৫ জুন, ২০১৭

ইসলাম নির্মূলে ইহুদী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত ও মিডিয়া সন্ত্রাস



২০০১ সালের নয় এগারোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সরকারীভাবে ক্রুসেড যুদ্ধের ঘোষনা দিলেও বাস্তবে আমেরিকার রাজনীতিতে এই ক্রুসেড অঘোষিতভাবে শুরু হয় বিল ক্লিনটনের সময়কাল থেকেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনেট রির্পোটে বলা হয়- প্রতিবছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ লোক ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হচ্ছে। ১৯৯৩ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের জন্য প্রণীত প্রতিবেদনে বলা হয়-মুসলিম বিশ্বের দেশ সমূহে পশ্চিমের ব্যর্থতার জন্য ইসলামের পরিবার প্রথাকেই দায়ী করা হয়। এছাড়া ইহুদী পন্ডিত শ্যামুয়েল হান্টিংটন “সভ্যতার সংঘাত” নামে একটি বই লিখেন-সেখানে তিনি পাশ্চত্য সভ্যতার অস্তিত্ত্বের জন্য ইসলামকে হুমকি হিসাবে উপস্থাপন করেন এবং এ হুমকি মোকাবেলায় পাশ্চাত্য বিশ্বকে ইসলাম নির্মূলের অভিযানে নামার নামার পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসাবে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ইহুদী নিয়ন্ত্রিত মার্কিনীদের মনে শংকা জন্মাতে লাগল। ২০০১ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্রুসেড ঘোষনার আগে এর প্রস্তুতি পর্ব এবং প্রাথমিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাত বছর আগে ১৯৯৩ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারী। এখানে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন-যে, ইহুদীরা সারা পৃথিবীতে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের জন্য স্বর্গভূমি। বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে দলে দলে এসে জড়ো হচ্ছে তাদের স্বর্গভূমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। খিষ্ট্রান ও ইহুদী ধর্মনুসারীদের ব্যাপক সংখ্যাধিক্যের সুবাদে হোয়াইট হাউজে দুই ধর্মের পতাকা উড়ত। কিন্তু বিল ক্লিনটনের সময়ে এসে এক নতুন প্রেক্ষাপটের সৃষ্টি হয়। ইহুদীরা তখন ছয় মিলিয়ন আর অন্যদিকে মুসলমানদের সংখ্যা ছয় মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাচ্ছিল, এরই ফলে ইহুদীদের একচেটিয়া প্রভাব প্রতিপত্তি এবং হোয়াইট হাউজে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য কমার আশংকা শুরু হল ক্রমবর্ধমান হারে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে। এরই প্রেক্ষাপটে শুরু হল ইসলাম নির্মূলের মিডিয়া সন্ত্রাস। ইহুদী লবী নিয়ন্ত্রিত যুক্তরাষ্ট্রের সমগ্র মিডিয়ায় ১৯৯৩-২০০০ সাল জুড়ে চলে মুসলমান, মুসলিম বিশ্ব এবং ইসলাম বিরোধী চর্তুমুখী সাঁড়াশি প্রোপাগান্ডার মিডিয়া ক্রুসেড। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া ও সরকার দুটোই ইহুদী নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কারণে মিডিয়ায় সাথে সাথে সরকারও মুসলমানদের ক্রমবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং ধর্মন্তরিত অনুৎসাহিত করতে উঠে পড়ে লাগে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় সিরিজ ভিত্তিক মিডিয়া সন্ত্রাস।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক টিভি চ্যানেল পিবিএস “জিহাদ ইন আমেরিকা” শিরোনামে এক ঘন্টার একটি ডকুমেন্টারি ফ্লিম দেখানোর মাধ্যমে মিডিয়া সন্ত্রাসের যাত্রা শুরু হয়। এতে দেখনো হয় যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম আমেরিকানরা জিহাদের প্রস্তুতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে গোপনে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এতে সুকৌশলে এটি দেখানো হয় যে, ফ্লিমটিতে অনেক হাত অস্ত্র চালাচ্ছে বোঝা গেলেও কারা প্রশিক্ষণ সেটি দেখানো হয় না। বলা হয় গোপন আস্তানায় মুসলমানেরা অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ডকুমেন্টারীতে দেখানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের সব মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টার জিহাদের জন্য এই অর্থ সংগ্রহে ভূমিকা রাখছে। আমাদের দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমেই অর্থ সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠান চালায়। এসব ওয়াজ মাহফিলের কোথাও জিহাদের প্রসঙ্গ এলে বা জিহাদ শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে থাকলে প্রামাণ্য চিত্রটিতে এভাবে এটাকে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, মনে হবে সকল মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু জিহাদের জন্য ভূরি ভূরি অর্থ সংগ্রহ করছে। ইসলাম, মুসলমান ও মুসলিম বিশ্ব বিরোধী মিডিয়া সন্ত্রাসের জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তিন ঘন্টার চলচ্চিত্র নির্মান করা হয় এবং মুভি থিয়েটারে দেখানো হয়। এর একটির নাম সিজ (অবরোধ) যার বিষয় হচ্ছে নিউ ইর্য়ক শহর মুসলিম সন্ত্রাসীরা সিজ করে ফেলছে। এটা এখন তাদের নিয়ন্ত্রনে। এই সন্ত্রাসীদের সমর্থনে হাজার হাজার মুসলমান রাস্তায় জড়ো হয়ে তাদের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে, মিছিল করছে। এ দৃশ্যের অবতারণা করে দর্শকদের একদিকে যেমন বোঝানো হচ্ছে সব মুসলমানেরই এ ধরণের কাজের প্রতি নৈতিক, মানসিক ও আর্থিক সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে বলে দেয়া হচ্ছে আমেরিকানরা তার ঘরেও নিরাপদ নয়। যে কোন সময় তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে যেমনটি নিউ ইয়র্কের মতো বৃহৎ শহরকে সিজ করা হয়েছে। রাস্তার মিছিল থেকে আটক করে তল্লাশি করে জুতার সেলের ভেতর থেকে আগেয়াস্ত্র পাওয়ার ছবি দেখানো হয়। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় মুসলমানেরা বোমা নিয়ে জিহাদের বেশে রাস্তায় এসেছে প্রতিবাদ করতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন