মুসলিমদের প্রথম কিবলা আল-কুদস (জেরুজালেম) পুনরুদ্ধার অভিযান
গাজী সালাহ্-উদ-দ্বীনের যোগ্য ভাই মালিক আল-আদিলের কুপুত্র সুলতান আল-কামিল নামেই মাত্র আইয়্যূবী নাম ধারণ করতেন, কাজে ও ধ্যান ধারনায় ছিলেন খ্রীষ্টান। তাই ঈসায়ী ১২২৯ সালে
বিদ্রোহী আইয়্যূবীদের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য ও হলি (পবিত্র) রোমান সম্রাট ২য় ফ্রেডরিখের
বন্ধুত্বের শর্তে আল-কামিল
গাজী সালাহ্-উদ-দ্বীনের কষ্টার্জিত আল-কুদস তথা জেরুজালেম শহর ফ্রেডরিখের হাতে তুলে দেন।
আল-কামিল এভাবেই ইসলামের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ফ্রেডরিখের সাথে বন্ধুত্ব করেন।
এভাবেই পবিত্র নগরী আল-কুদস্ আবার খ্রীষ্টানদের অধিনস্ত হয়।
কিন্তু আইয়্যূবী সুলতান মালিক আস্-সালিহ্ আইয়্যূব ছিলেন ভিন্ন ধাতুতে গড়া। ঈসায়ী ১২৪৪ সালে তিনি আল-কুদ্স পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
সাথে চললো ৪০০০ অশ্বারোহী, ২০০০ পার্বত্য বেদুঈন ও ৬০০০ পদাতিক খাওয়ারিঝামের জাঙ্গী বাহিনী। আর ঠিক পেছনেই চললো ১,০০০ মামলূক সৈন্যসহ মোট ১৩,০০০ সৈন্য।
দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, খ্রীষ্টান ক্রুসেডারদের সাথে হাত মিলালো হিমস্, হালাব ও কারখের আইয়্যূবী যুবরাজরা!
ক্রুসেডাররা মাত্র ১১,০০০ সৈন্য আল-কুদ্স রক্ষায় সমবেত করলো। কিন্তু তারা ২০,০০০ সৈন্যের আরেকটি বাহিনী ধূর্ততা বশতঃ আল-কুদস্ থেকে ঘুড়পথে আল-কুদ্স, কারখ ও কারখ্ থেকে মা’নে জড়ো করলো আচমকা পেছন থেকে মুসলিম বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্যে।
বাইবার্স (তখন তিনি সুলতান হন নি) তখন মামলূক সৈন্যদের একজন, নিজ জাতির কুমানদের উপর ছিল তার অসাধারণ প্রভাব।
বাইবার্স ইসমাঈলীয়া থেকেই আলাদা হয়ে গেলেন ভিন্নপথে এগুনোর জন্যে। তিনি স্বয়ং মামলূক সৈন্যদের নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। বাইবার্সের ইচ্ছা ভিন্নপথে আল-কুদসে হাজির হয়ে শত্রুদের তাক লাগিয়ে দেওয়া।
দুর্ধর্ষ বাইবার্স নেভেগ মরুভূমির বুকের উপর দিয়ে রওয়ানা হলেন ও মা’ন এর কাছে দিগন্তরেখায় অনেক ধোঁয়ার রেখা দেখে যা বোঝার বুঝলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, মা’ন-এ ক্রসেডার ও বিদ্রোহী আইয়্যূবীদের বাহিনী সমবেত হয়েছে পেছন থেকে সুলতানের বাহিনীকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে।
সুলতান আস্-সালিহ্ খ্রীষ্টানদের এসব ফাঁদের বিন্দু বিসর্গও জানতেন না। কিন্তু বাইবার্স ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিলেন না। তিনি মাত্র ১,০০০ সৈন্য নিয়েই আচমকা নেগেভের বুক চিরে ভূতের মতো উদয় হলেন ও গাজাহ্’র উত্তরে হারবিইয়্যাহ্তে ২০,০০০ ক্রুসেডার সৈন্যের মুখোমুখী হলেন।
তিনি ১টি মাত্র তীব্র আক্রমণেই ক্রুসেডারদের ছিন্ন-ভিন্ন করে দিলেন। এখানেই থামলেন না বাইবার্স, সোজা ছুটে গেলেন আল-কুদসের দিকে।
খাওয়ারিঝামের জাঙ্গী বাহিনীর আক্রমণে খ্রীষ্টানদের অবস্থা তখন টাল-মাতাল। তারা মনেমনে আশা করছিলো, মা’ন এর সেই বাহিনীর আগমনের। কিন্তু আফ্সোসের ব্যাপার হচ্ছে, মা’নের বাহিনী তখন বাইবার্সের কারণে ইতিহাস হয়ে গিয়েছে।
বাইবার্স তার ১,০০০ মামলূক সৈন্য নিয়ে আল-কুদস আক্রমণের সাথে সাথে ভেঙে পরলো খ্রীষ্টানদের প্রতিরোধ। ১৫ বছর পর পবিত্র নগরী আল-কুদ্স থেকে খ্রীষ্টান শাসনের অবসান ঘটলো, যার মূল কৃতিত্ব প্রথমত বাইবার্সের মামলুক ও দ্বিতীয়ত খাওয়ারিঝামের জাঙ্গী বাহিনীর।
____________________
['Sultan Baibars' পেইজ থেকে গৃহীত ও সামান্য পরিবর্তিত]

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন