Profile

বুধবার, ১৭ মে, ২০১৭

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর, পিচু হটছে আমেরিকা

তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ খারিজ করে দিয়েছে ইসরায়েল। তাদের মতে, দূতাবাস স্থানান্তরের ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। ক্ষতি হলে ইসরায়েল-বিরোধীদের হবে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে এটাই তাঁর প্রথম ‘প্রকাশ্য’ বিরোধ। আর এই বিরোধ এমন সময় দেখা দিল, যখন ট্রাম্প ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্য সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর ১৯৮০ সালে তেল আবিব থেকে রাজধানী জেরুজালেমে স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়; ফিলিস্তিনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো মেনে নেয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলছে, এতে করে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি আলোচনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ব্যাপকহারে সহিংসতা শুরু হবে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন। আর এই স্থানান্তরের মানে হলো, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প অবশ্য সুর পাল্টেছেন। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছে ইসরায়েল।
গত রবিবার এনবিসি নিউজে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, ‘দূতাবাস স্থানান্তর হলে তা শান্তি আলোচনায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা কিভাবে দেখছেন, তার ওপর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনেকখানি নির্ভর করবে। এমনকি ইসরায়েলের দৃষ্টিভঙ্গিও শান্তি আলোচনার অনুকূলে কি না—সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। ’
টিলারসনের এ মন্তব্যের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে ইসরায়েলের মনোভাব কী, তা বহুবার যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরে শান্তি আলোচনার কোনো ক্ষতি হবে না। ক্ষতি হলে তা ইসরায়েলের বিরোধীপক্ষের হবে। আর এই দূতাবাস স্থানান্তর হলে ইতিহাসের ভুল সংশোধন হবে। এ ছাড়া জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী নয়—ফিলিস্তিনের এমন অলীক কল্পনাও ধূলিসাৎ হবে। ’
সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন