যুক্তরাষ্ট্র ২০১৬ সালে বিশ্বের সাত দেশে প্রায় ২৬,০০০ বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে। মার্কিন গবেষক মিকা জিংকু অনলাইনে এই পরিসংখ্যানের ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকা সিরিয়ায় ১২,১৯২টি, ইরাকে ১২,০৯৫টি, আফগানিস্তানে ১,৩৩৭টি, লিবিয়ায় ৪৯৬টি, ইয়েমেনে ৪৩টি, সোমালিয়ায় ১২টি এবং পাকিস্তানে তিনটি বোমা নিক্ষেপ করেছে।
এ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বিমান হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে যেখানে ওয়াশিংটন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ২৬,১৭১টি বোমা নিক্ষেপ করেছে সেখানে ২০১৫ সালে এই পরিমাণ ছিল ২৩,১৪৪টি।
গত প্রায় দুই বছর ধরে উগ্র তাকফিরি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল বা দায়েশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট গঠন করে হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন নেতৃত্বাধীন এ জোট গত মাসে স্বীকার করেছে, ২০১৬ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় তাদের বিমান হামলায় ১৭৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
তবে বেসামরিক মানুষ হত্যা করেও সন্ত্রাসীদের নির্মূলের লক্ষ্যে তেমন কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি আমেরিকা। উল্টো বরং সন্ত্রাসীদের সহায়তা করার জন্যই আমেরিকা বিমান হামলা চালিয়েছে এমন ভূরি ভূরি প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বব্যাপী এখন যে জঙ্গিবাদ ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে তার প্রধান কারণ দেশে দেশে আমেরিকার আগ্রাসন ও নির্বিচার হামলা।
ইরাকে মার্কিন হামলা ও দেশটিতে আমেরিকার দখলদারিত্বের ফলেই মূলত দায়েশের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর উৎপত্তি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গত ১৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যেখানেই আমেরিকা হাত দিয়েছে সেখানেই সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। আর এই ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে বিভিন্ন উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী।
আজ ইরাক ও সিরিয়ায় যে ধ্বংসলীলা চলছে তার সঙ্গে আমেরিকার আগ্রাসী নীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী আচরণের ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা সন্ত্রাসবাদের সূতিকাগারের পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী মার্কিন বোমা হামলার এ পরিসংখ্যান অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমেরিকার সহিংস প্রকৃতিকে বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে, নিজের অশুভ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ওয়াশিংটন কোনো ধরনের নীতি-নৈতিকতা ও চক্ষুলজ্জার ধার ধারে না। নিরপরাধ মানুষ হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে আমেরিকার কোনো জুড়ি নেই।
আর এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে একমাত্র লাভবান হচ্ছে উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো। এসব গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গোলযোগ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে রেখেছে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজের সাম্রাজ্যবাদী ও দখলদার নীতি বাস্তবায়নের জন্য বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে মার্কিন সরকার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন