Profile

বুধবার, ৩১ মে, ২০১৭

রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের শেষ স্থানটুকুও রইল না

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশকে সেভাবে আঘাত করতে না পারলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে এনেছে উপকূল অঞ্চলে। বুধবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দেখা যায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অসহায় ভরা চোখ আর আর্তি। মিয়ানমারের সৈন্যদের হাতে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া এই রোহিঙ্গাদের শেষ মাথার ছাউনিটুক্ওু কেড়ে নিয়েছে ‘মোরা’। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
মঙ্গলবার সকালের দিকে ‘মোরা’ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল কক্সবাজারে আঘাত হানে। আগাম পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সরকার উপকূল অঞ্চল থেকে প্রায় সাড়ে তিনলাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, মোরার আঘাতে কমপক্ষে ৭ জন মানুষ নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী কার্যালয় থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবির ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকনাফের কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা ওমর ফারুক বলেন, আমাদের এখন মাথা রাখার মত কোনো জায়গা নেই। খোলা আকাশের নিচে আমাদের থাকতে হচ্ছে। তবে ত্রাণ সংস্থা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছে এবং যা যা প্রয়োজন তাা খোঁজখবর নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, শুধু রোহিঙ্গা শিবির নয় ‘মোরা’ পুরো কক্সবাজারেই আঘাত হেনেছে। ১৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি লন্ডভন্ড হয়েছে এবং ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য নির্মিত শরণার্থী ক্যাম্পে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছেন। সামসুল আলম নামে এক রোহিঙ্গা নেতা রয়টার্সকে বলেন, ‘বালুখালি এবং কুতুপালং ক্যাম্পের প্রায় ১০ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যাম্পের বেশিরভাগ অস্থায়ী ঘরই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।’
কক্সবাজারে কর্মরত জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন নিহতের খবর পাওয়া যায় নি, কিছু লোক আহত হয়েছেন। শিশু ও গর্ভবতীদের বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে বালুখালি এবং কুতুপালং শিবিরের অধিকাংশ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। ঝড়ো বাতাসের মধ্যে তারা দুর্বল কাঠামোর মধ্যে বাস করছেন। আমরা উদ্বিগ্ন।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ শক্তিশালী আকার ধারণ করে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে উপকূলে আঘাত হানে। বাংলাদেশে উপকূল ঘেষে এটি ভারতের দক্ষিণাঞ্চল ও শ্রীলংকায় আঘাত হেনেছে। এই পর্যন্ত মোট ২০২ জন মারা গিয়েছেন, ৯৬ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের নৌ-বাহিনী ৩৩ জন বাংলাদেশীকে উদ্ধার করেছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন