Profile

রবিবার, ২৮ মে, ২০১৭

কারাগারে বসে যেভাবে চাঁদাবাজি করছে ‘ধর্ষক’ নাঈম আশরাফ


বনানী রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের মামলার প্রধান দুই আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ কারাগারে তাদের প্রথম সাক্ষাতেই মারামারি করেছিল। কিন্তু এবার বেরিয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরেই ‘ধর্ষক’ নাঈম আশরাফের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান তার বন্ধু ফাহিম আনসারী। তিনি নাঈমের সঙ্গে ১২ মিনিট কথা বলে বেরিয়ে আসেন। তারপর থেকেই এ পর্যন্ত ২ জন নারী এবং ১ জন পুরুষ নাঈমের প্রিজনার কার্ড (পিসি কার্ড) এ ৭৩ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তারা নিজেদের নাঈমের বন্ধু হিসাবে পিসি কার্ডে টাকা জমা দিয়েছেন জানালেও সূত্র জানিয়েছে, মূলত যাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল তাদেরকে নাঈম তার বন্ধুকে দিয়ে তালিকা করে বিভিন্নজনকে ফোন দিয়ে টাকা পাঠানোর কথা বলছেন।

এ পর্যন্ত যে দুইজন নারী নাঈমের জন্য টাকা দিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন উঠতি মডেল রয়েছেন, যিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় থাকেন এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন বলেও জানিয়েছে নাঈমের এক বন্ধু।
এমনিতে জেলখানার ভিতরেও সাফাত, সাদমান ও নাঈমরা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে ৬ই মে বনানী থানায় মামলা করেন নির্যাতিত এক তরুণী। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৮শে মার্চ পূর্বপরিচিত সাফাত আহমেদ তার জন্মদিনের দাওয়াত দেয় এই দুই তরুণীকে।

এরপর বনানীর ‘কে’ ব্লকের ২৭ নম্বর সড়কের ৪৯ নম্বরে রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। হোটেলের একটি কক্ষে আটকে রেখে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মামলার বাদীকে সাফাত ও তার বান্ধবীকে নাঈম ধর্ষণ করে। এ সময় সাফাতের গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিও করানো হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, র‌্যাগমান গ্রুপের মালিকের ছেলে সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও গানম্যান রহমতকে আসামি করা হয়।

মামলার পর পৃথক অভিযানে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় রহমত ছাড়া চার আসামিই ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। নাঈম আশরাফ সিরাজগঞ্জের ফেরিওয়ালা আমজাদ হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বনানীর ধর্ষণ ঘটনায় জড়িত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। তার প্রকৃত নাম হাসান মো. আব্দুল হালিম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন