Profile

সোমবার, ১২ জুন, ২০১৭

ইবির ডায়েরিতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ বাদ দিয়ে বসানো হলো


বিশ্ববিদ্যালয়ে ডায়েরিতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ বাদ দেয়া হয়েছে। এর স্থলে ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান লেখা হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দীর্ঘ সাত বছর পর প্রকাশিত ইবির ডায়েরিতে এমনটি ঘটেছে। এদিকে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর দায়ভার নিতে নারাজ প্রশাসন। ডায়েরি প্রকাশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘যে উক্তিটি দেয়া হয়েছে তা বর্তমান সরকারের স্লোগান। ইউজিসি থেকে পাঠানো কাগজপত্রে উক্ত বাক্যটি থাকে বলে আমরাও দিয়েছি। এছাড়া দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরিও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয় না।’ তবে আগামী দিনে প্রকাশিত ডায়েরিতে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী। তিনি বলেন, বিষয়টি ভুলেও হতে পারে।
বিগত বছরগুলোর ডায়েরি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ডায়েরির প্রথম পাতার শীর্ষে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ বাক্যটি লেখা রয়েছে। কয়েক পৃষ্ঠা পরেই রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মহান লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত ডায়েরিগুলো বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু। ১৯৯৬ থেকে ২০০২ পর্যন্ত ডায়েরিতে বিসমিল্লাহ্ নেই। আবার ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ডায়েরিগুলো শুরু হতো বিসমিল্লাহ্ দিয়েই। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশিত প্রথম ডায়েরিতে বিসমিল্লাহ্ নেই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ (৩৭) ধারা অনুযায়ী সেখানে বলা আছে, ‘ধর্মতত্ত্ব, ইসলামী শিক্ষা, তুলনামূলক আইনশাস্ত্র এবং অন্যান্য শিক্ষণ শাখাসমূহে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষা চর্চার ব্যবস্থা করা।’ বিসমিল্লাহ্ বাদ দিয়ে বর্তমান প্রশাসন আইনের এই ধারাকে অস্বীকার করেছে বলে দাবি করছে শিক্ষকেরা।
এদিকে প্রকাশিত ডায়েরির গুণগত মান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। শিক্ষকদের নামে সিনিয়রিটি মেইনটেন না করাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিনিয়রিটি বিষয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন হয়। তারপরেও ভুলসহই প্রকাশ করা হয় ডায়েরি। বিগত বছরগুলোতে প্রকাশিত ডায়েরিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এবং প্রতিষ্ঠাতার নাম থাকলেও এবারের ডায়েরিতে তা নেই। জানা যায়, প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হওয়ায় ডায়েরিতে তার নাম দেয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয় বর্তমান আওয়ামী সকরকারের আমলে। মূলত এ কারণেই দীর্ঘ সাত বছর কোনো ডায়েরি প্রকাশ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
মুদ্রণ কমিটির আহ্বায়ক ড. রাবিউল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকে ডায়েরি প্রকাশের নির্দেশনা ছিল। আমরা শুধু অনুসরণ করেছি। যে উক্তিটি দেয়া হয়েছে তা বর্তমান সরকারের স্লোগান। ইউজিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন কাগজে উক্ত স্লোগানটি লেখা থাকে।’

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন