গত ১০ মে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তাতে সবাইকে নিয়ে এক ‘রেইনবো নেশন’ বা রঙধনু জাতি গড়ার কথা বলেছেন।
খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ নামের ওই রূপকল্পে ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা, প্রবৃদ্ধি দুই অংকে নেয়া, দেশীয় বিনিয়োগে নানা সুযোগ-সুবিধাসহ আড়াই শতাধিক দফা তুলে ধরেছেন তিনি।
মানবাধিকার সমুন্নত রাখাসহ নাগরিক জীবনের সার্বিক উন্নয়নে ভিশন ২০৩০ এ নানা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
অর্থাৎ একটি উন্নত জাতি গঠনে যত সব পরিকল্পনার দরকার সবকিছুই এই ভিশনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে খালেদার পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি দেশের শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিকদের বিষয়টি। শ্রমিকদের কল্যাণে তিনি তার মহাপরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শ্রমিক শ্রেণীর ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষি করার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে। বাজারমূল্য ও মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে সকল সেক্টরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য প্রতি দুই বছর অন্তর রিভিউ ব্যবস্থা চালু করা হবে। যৌক্তিক শ্রমিক স্বাস্থ্য-সেবা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিখাতের দায়িত্ব সম্পর্কে আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়ন করবে। এই আইন ও বিধি হবে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংগে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই ধরনের ব্যবস্থা থাকবে রাষ্ট্রীয় খাতের জন্য।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত কয়েকবছরে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় শত শত শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে। শত শত শ্রমিক বিকলাঙ্গ হয়েছে। বিএনপি এ ধরনের ট্রাজিক দুর্ঘটনা থেকে শিল্প-খাতকে মুক্ত করতে চায়। এই লক্ষ্যে বিদ্যমান শিল্প-কারখানাগুলোর উপর প্রত্যক্ষ জরিপ চালিয়ে শিল্প-কারখানাগুলোতে বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে অগ্নিকান্ড, বয়লার বিস্ফোরণ, কারখানা ভবন-ধ্বস সহ দুর্ঘটনার উৎসসমূহ চিহ্নিত করা হবে এবং সরকারী ও বেসরকারি সেক্টরে শিল্প-কারখানাগুলোকে দুর্ঘটনামুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নতুন কোন শিল্প-কারখানা যাতে দুর্ঘটনা কবলিত না হয় সে লক্ষ্যে কারখানার অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর কারিগরি মান নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তিনি এও বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে কর্মরত বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন