ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের ডোডা জেলার একটি পুলিশ ফাঁড়িতে অজ্ঞাত সন্দেহভাজন দুর্বৃত্তদের হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আজ (মঙ্গলবার) ভোর ২ টা নাগাদ টানাটা এলাকায় ওই হামলায় কর্তব্যরত দু’জন স্পেশাল পুলিশ অফিসার (এসপিও) গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের একজনের ঘাড়ে এবং অন্যজনের পেটে গুলি লেগেছে। অজ্ঞাত হামলাকারীরা কমপক্ষে ১০/১২ রাউন্ড গুলি চালায়।
ওই ঘটনার পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত এসপিও কিকর সিং এবং এসপিও মুহাম্মদ ইউনুসকে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে দু’জনকে ডোডা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তদের অবস্থার অবনতি হলে জিএমসি জম্মুতে স্থানন্তরিত করা হয়।
একটি সূত্রে প্রকাশ, গভীর রাতে মুহাম্মদ ইউনুসের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। এদিকে, পুলিশ ফাঁড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই এলাকায় মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
ডোডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিনয় কুমার আজ বলেন, ২০১১ সালে ডোডাকে সন্ত্রাসবাদমুক্ত জেলা ঘোষণা করা হয়। সমস্ত দিকের কথা মাথায় রেখে ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে গোটা এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। কমপক্ষে ১০/১২ রাউন্ড গুলি চলার শব্দ পাওয়া গেছে।
এদিকে, ওই ঘটনা গেরিলা হামলা ছিল কী না তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আহত দু’জন পুলিশ কর্মকর্তার বন্দুক ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। তা থেকে একটিও গুলি চলেনি। বলা হচ্ছে যেখানে ওই হামলা হয় সেখানে ৬ জন অন্য পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ঘটনার সময় দু’জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সেখানে যে গুলি চালানো হয় তা, একে-৪৭ রাইফেলের ছিল যা সাধারণত পুলিশের কাছে থাকে এবং গেরিলারাও তা ব্যবহার করে থাকে।
মহকুমা পুলিশ কর্তা সোনি গুপ্তার মতে, রাতে আহত হওয়া দু’জন এসপিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কিছু ছুটিতে এবং কিছু ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিল। ওই ফাঁড়িতে মোতায়েন অন্য পুলিশকর্মীদের বন্দুক বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ওইসব বন্দুক থেকে গুলি চলেছিল কী না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক শিবদেব সিং জাম্বাল, সিনিয়র পুলিশ সুপার শাব্বির খটানা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন