ফেসবুকে প্রায়ই দেখা যায়, জাতীয়তাবাদী শক্তির সাথে জামাত-শিবিরের কলম যুদ্ধ শুরু।
অফিসিয়ালি জামাত এখনো বিএনপির নির্বাচনী সহযোগী। **শুধুই নির্বাচনী সহযোগী।
কথাটি দুই গ্রূপেরই মনে রাখা উচিত। এমনিতেই বর্তমানে দেশের জাতীয়তাবাদী কলম বেশির ভাগ জেলে। জামাত তো কোথাও নেই। সুতরাং প্রবাসী ভালো লেখকরা যদি নিজেরা একে অপরের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, তাতে কারা লাভবান হবে?
বরং, হাসিনা যে দেশ থেকে পালাবার সিন্ধান্ত নিয়েছে, তা বাতিল করবে।
জামাতের অভিযোগ :
তাদের নেতাদের একের পর ফাসি হয়েছে কিন্তু বিএনপি কোনো প্রতিবাদ করেনি।
কথাটি অর্ধেক সত্য।
নেত্রী নিজে বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির সব নেতা-কর্মী বিচারের স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কেউই বিচার বাতিল হোক সে দাবি করেন নি।
কেন করবেন?
যে দলের প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় দেশের সবাই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, যে ব্যক্তি নিজে স্বাধীনতা যুদ্ধে রনাঙ্গনে থেকে যুদ্ধ করেছেন, তার প্রতিষ্ঠিত দল কিভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার বাতিলের দাবি করবে?
সম্ভবত, একমাত্র সাঈদী ছাড়া জামাতের বাকি সবাই সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। সাঈদীর ব্যাপারে এটা বলার কারণ, পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জিয়া উদ্দিন সাঈদীকে ‘রাজাকার’ বলেন নি।
কাদের মোল্লার পক্ষে অবশ্য আওয়ামী এমপি গো-মা রনি কলম ধরেছিলেন। তবে তা নিয়ে খুব একটা আলোড়ন হয়নি।
কিন্তু ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পরেও আজ পর্যন্ত জামাত জাতির কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চায়নি।
এটা চরম ধৃষ্টতা।
সুতরাং এদের বিচারে বিএনপি বাধা দেবে না এটাই স্বাভাবিক।
কেউ কেউ বলছেন, ‘ফাসি হবার পর বিএনপি উল্লাস করেছে।’
কথাটি মোটেই সত্যি নয়। কারো মৃত্যু নিয়ে উল্লাস করার শিক্ষা বিএনপি দেয় না। মৃত ব্যক্তির প্রতি ঘৃনা করতে জিয়াউর রহমান শেখান নি।
বিএনপির সবাই, ”ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলেছেন।
বিএনপির ক্ষোভ :
জামাত ৯১ সালে বিএনপির সাথে নির্বাচনী-জোট করে ১৮ আসন পায়। ১৮ আসন পেয়েই জামাত নিজেদের বেশ শক্তিশালী ভাবতে শুরু করে। ভাবে, তারা বেশ জনপ্রিয়।
ফলে যখন হাসিনার ডাক পায়, তাৎক্ষণিক, হাসিনার সাথে হাত মেলায়। নৌকার সাথে এক যোগে আন্দোলন করে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে।
কিন্তু ৯৬ সালের নির্বাচনে ১৮ আসন থেকে ৩ আসনে নেমে এলে জামাতের ঘুম ভাঙে।
হাসিনা কলা দেখিয়েছে বুঝতে পেরে আবার বিএনপির আশ্রয় চায়। ২০০১ বিএনপি বিপুল ভোটে জিতে পুনরায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পায়। বিএনপি+জামাত নির্বাচনী জোটের কারণে জয় এলেও সেখানে জামাতের ভোট সর্বোচ্চ ৪%-৬% এর বেশি নয়।
তবে, জামাতের ৪%-৬% ভোট বিএনপির বেশি আসন জেতার পিছনে ভূমিকা রাখে। সেদিক বিবেচনা করেই বিএনপি নেত্রী আওয়ামীলীগের শত সমালোচনা উপেক্ষা করে জামাতের ২ জনকে মন্ত্রী বানান।
নেত্রীর যুক্তি ছিল, দেশের জনগণ ভোট দিয়ে এদের নির্বাচিত করেছেন সুতরাং মন্ত্রী হতে বাধা নেই। কারণ, একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগনই মূল কথা।
কিন্তু কুখ্যাত ১/১১ তে জামাতের অবস্থান?
গোলাম আজমের ছেলের কারণে জামাত আকাশের চুড়ায় উঠে যায়। নেত্রী ফোন করলে জামাত নেতারা ফোন রিসিভ করে না। ২/১ দিন পর পর টিভিতে বিবৃতি দেয়, ‘বিএনপির দুর্নীতির দায় আমরা নেব না’ বলে।
এসব মাত্র কিছুদিন আগের কথা। কিভাবে ভুলবো?
জামাতের সাথে আওয়ামীর আতাতের কথা বহুবার পত্রিকায় এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় জামাত নেতাও আওয়ামীলীগে যোগ দিচ্ছে।
লীগের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে, জামাত যদি কথা দেয়, আগামীতে জোট ছাড়া নির্বাচন করবে এবং ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে তাহলে প্রতি আসনে ১০ কোটি করে ৩০০০ হাজার কোটি টাকা নির্বাচন খরচ দেবে।
আরও আশ্বাস দেয়া হয়, বিএনপি ছাড়লে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া ও দলের লোক’রা ”রাজাকার” শব্দটি আর উচ্চারণ করবে না।
প্রমাণ স্বরূপ বেহায়া+স্বৈরাচার এরশাদের নাম থেকে ”স্বৈরাচার” মুছে যাওয়ার উদাহরণ দেয়া হয়।
যদিও জামাত সে সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। যাই হোক, বর্তমান সময়টা খুবই জটিল। হাসিনা ইতিমধ্যে জেনে গেছে, ক্ষমতা ছাড়তে হবে। সে তার দলকে পালাতেও ইশারা দিচ্ছে।
তাই সবার প্রতি আমার অনুরোধ, যতদিন নির্বাচনী জোট বহাল আছে, আপনারা আপনাদের চমৎকার লেখনি শক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যয় করবেন না। বিশেষ করে প্রবাসীরা।
বর্তমানে দেশে বসে সত্যি কথা লেখা খুব কঠিন।
মাহমুদা ডলির মতো সাহসী সাংবাদিক খুব বেশি অবশিষ্ট নেই। সুতরাং, অবৈধ, অত্যাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে আপনাদেরকেই লিখতে হবে।
উৎসঃ দেশ জনতা
কথাটি দুই গ্রূপেরই মনে রাখা উচিত। এমনিতেই বর্তমানে দেশের জাতীয়তাবাদী কলম বেশির ভাগ জেলে। জামাত তো কোথাও নেই। সুতরাং প্রবাসী ভালো লেখকরা যদি নিজেরা একে অপরের বিরুদ্ধে কলম ধরেন, তাতে কারা লাভবান হবে?
বরং, হাসিনা যে দেশ থেকে পালাবার সিন্ধান্ত নিয়েছে, তা বাতিল করবে।
জামাতের অভিযোগ :
তাদের নেতাদের একের পর ফাসি হয়েছে কিন্তু বিএনপি কোনো প্রতিবাদ করেনি।
কথাটি অর্ধেক সত্য।
নেত্রী নিজে বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে বহুবার প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির সব নেতা-কর্মী বিচারের স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কেউই বিচার বাতিল হোক সে দাবি করেন নি।
কেন করবেন?
যে দলের প্রতিষ্ঠার ঘোষণায় দেশের সবাই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, যে ব্যক্তি নিজে স্বাধীনতা যুদ্ধে রনাঙ্গনে থেকে যুদ্ধ করেছেন, তার প্রতিষ্ঠিত দল কিভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার বাতিলের দাবি করবে?
সম্ভবত, একমাত্র সাঈদী ছাড়া জামাতের বাকি সবাই সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। সাঈদীর ব্যাপারে এটা বলার কারণ, পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জিয়া উদ্দিন সাঈদীকে ‘রাজাকার’ বলেন নি।
কাদের মোল্লার পক্ষে অবশ্য আওয়ামী এমপি গো-মা রনি কলম ধরেছিলেন। তবে তা নিয়ে খুব একটা আলোড়ন হয়নি।
কিন্তু ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে, দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পরেও আজ পর্যন্ত জামাত জাতির কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চায়নি।
এটা চরম ধৃষ্টতা।
সুতরাং এদের বিচারে বিএনপি বাধা দেবে না এটাই স্বাভাবিক।
কেউ কেউ বলছেন, ‘ফাসি হবার পর বিএনপি উল্লাস করেছে।’
কথাটি মোটেই সত্যি নয়। কারো মৃত্যু নিয়ে উল্লাস করার শিক্ষা বিএনপি দেয় না। মৃত ব্যক্তির প্রতি ঘৃনা করতে জিয়াউর রহমান শেখান নি।
বিএনপির সবাই, ”ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন” বলেছেন।
বিএনপির ক্ষোভ :
জামাত ৯১ সালে বিএনপির সাথে নির্বাচনী-জোট করে ১৮ আসন পায়। ১৮ আসন পেয়েই জামাত নিজেদের বেশ শক্তিশালী ভাবতে শুরু করে। ভাবে, তারা বেশ জনপ্রিয়।
ফলে যখন হাসিনার ডাক পায়, তাৎক্ষণিক, হাসিনার সাথে হাত মেলায়। নৌকার সাথে এক যোগে আন্দোলন করে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলে।
কিন্তু ৯৬ সালের নির্বাচনে ১৮ আসন থেকে ৩ আসনে নেমে এলে জামাতের ঘুম ভাঙে।
হাসিনা কলা দেখিয়েছে বুঝতে পেরে আবার বিএনপির আশ্রয় চায়। ২০০১ বিএনপি বিপুল ভোটে জিতে পুনরায় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ফিরে পায়। বিএনপি+জামাত নির্বাচনী জোটের কারণে জয় এলেও সেখানে জামাতের ভোট সর্বোচ্চ ৪%-৬% এর বেশি নয়।
তবে, জামাতের ৪%-৬% ভোট বিএনপির বেশি আসন জেতার পিছনে ভূমিকা রাখে। সেদিক বিবেচনা করেই বিএনপি নেত্রী আওয়ামীলীগের শত সমালোচনা উপেক্ষা করে জামাতের ২ জনকে মন্ত্রী বানান।
নেত্রীর যুক্তি ছিল, দেশের জনগণ ভোট দিয়ে এদের নির্বাচিত করেছেন সুতরাং মন্ত্রী হতে বাধা নেই। কারণ, একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগনই মূল কথা।
কিন্তু কুখ্যাত ১/১১ তে জামাতের অবস্থান?
গোলাম আজমের ছেলের কারণে জামাত আকাশের চুড়ায় উঠে যায়। নেত্রী ফোন করলে জামাত নেতারা ফোন রিসিভ করে না। ২/১ দিন পর পর টিভিতে বিবৃতি দেয়, ‘বিএনপির দুর্নীতির দায় আমরা নেব না’ বলে।
এসব মাত্র কিছুদিন আগের কথা। কিভাবে ভুলবো?
জামাতের সাথে আওয়ামীর আতাতের কথা বহুবার পত্রিকায় এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় জামাত নেতাও আওয়ামীলীগে যোগ দিচ্ছে।
লীগের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে, জামাত যদি কথা দেয়, আগামীতে জোট ছাড়া নির্বাচন করবে এবং ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে তাহলে প্রতি আসনে ১০ কোটি করে ৩০০০ হাজার কোটি টাকা নির্বাচন খরচ দেবে।
আরও আশ্বাস দেয়া হয়, বিএনপি ছাড়লে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী, মিডিয়া ও দলের লোক’রা ”রাজাকার” শব্দটি আর উচ্চারণ করবে না।
প্রমাণ স্বরূপ বেহায়া+স্বৈরাচার এরশাদের নাম থেকে ”স্বৈরাচার” মুছে যাওয়ার উদাহরণ দেয়া হয়।
যদিও জামাত সে সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। যাই হোক, বর্তমান সময়টা খুবই জটিল। হাসিনা ইতিমধ্যে জেনে গেছে, ক্ষমতা ছাড়তে হবে। সে তার দলকে পালাতেও ইশারা দিচ্ছে।
তাই সবার প্রতি আমার অনুরোধ, যতদিন নির্বাচনী জোট বহাল আছে, আপনারা আপনাদের চমৎকার লেখনি শক্তি নিজেদের বিরুদ্ধে ব্যয় করবেন না। বিশেষ করে প্রবাসীরা।
বর্তমানে দেশে বসে সত্যি কথা লেখা খুব কঠিন।
মাহমুদা ডলির মতো সাহসী সাংবাদিক খুব বেশি অবশিষ্ট নেই। সুতরাং, অবৈধ, অত্যাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে আপনাদেরকেই লিখতে হবে।
উৎসঃ দেশ জনতা

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন