Profile

সোমবার, ২৯ মে, ২০১৭

বিনা টেন্ডারেই ভারতকে ৮১ হাজার কোটি টাকার কাজ, দৃষ্টি ফেরাতেই মূর্তি ইস্যু চাঙ্গা করা হয়



সুপ্রিমকোর্টের সামনে হঠাৎ করেই মূর্তি স্থাপন এবং আবার রাতের অন্ধকারে সেটি অপসারণ সব কিছুই ছিল একটি সুক্ষ পরিকল্পনার অংশ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে মাদকাসক্ত মৃনাল কাউকে না জানিয়েই সুপ্রিমকোর্টের সামনে হঠাৎ স্থাপন করেন কিম্ভুৎকিমাকার এক মূর্তি। এটি না মূর্তি না ভাস্কর্য্য। আমেরিকা প্রবাসী মৃনালকে দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের সামনে এটি স্থাপনের পর আলেম ওলামারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। যেহেতু আলেম ওলামারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন অতএব দেশের কতিপয় পোষ্য বুদ্ধিজীবী মূর্তির পক্ষে অবস্থান নেন। এরমধ্যে এপ্রিল মাসে ভারত থেকে ফিরে এসে শেখ হাসিনাও মুখ খুলেন সুপ্রিমকোর্টের সামনে স্থাপিত মূর্তির বিরুদ্ধে। একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এর পুরোটাই ছিল ভারতের হেফাজতে আওয়ামীলীগ গোষ্ঠীর একটি পূর্বপরিকল্পনা অংশ।

সূত্রমতে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মূর্তি স্থাপন আর অপসারনের পরিকল্পিত নাটকে সবাই যখন ব্যাস্ত এ ফাঁকে ২৩ মে বুধবার সচিবালয়ে ব্যাংক ডাকাত সরকারের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় টেন্ডার ছাড়াই ভারতীয় কম্পানী রিলায়েন্স গ্রুপকে প্রায় ৮১ হাজার কোটির টাকার কাজ দিয়ে দেয়। অথর্ব মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে আগামী ২২ বছরে ৮০ হাজার কোটির টাকার কাজ পাবে ভারতীয় এই কোম্পানি । আগামী ২০১৯ সালে বিদ্যুৎ উতপাদন শুরু হলে রিলায়েন্স-এর কাজ থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ।

জানা যায়, বিদ্যুৎ বিক্রি করে যে আয় হবে, তা থেকে বাংলাদেশ সরকারকে কোন ধরনের ট্যাক্স দিতে হবে না রিলায়েন্সেকে। নোয়াখালী ও চট্রগ্রামে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করবে ভারতীয় এই কোম্পানি। মূলত বাংলাদেশের গ্যাস দিয়েই তৈরি করা হবে এই বিদ্যুৎ। আর এর জন্য রিলায়েন্সেকে গ্যাস সরবরাহে বিনে পয়সায় পাইপ লাইন করে দেবে বাংলাদেশের সরকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে মতে, কেন্দ্রটি নির্মাণে ভারতের রিলায়েন্স গ্রূপ সরকারের কাছে মেঘনা ঘাট এলাকায় ৪০ একর জায়গা চেয়েছে। সরকারের পক্ষে জমি দেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্পের অধীনে মহেশখালীতে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করার জন্য একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করবে রিলায়েন্স। মহেশখালি থেকে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম পর্যন্ত একটি পাইপলাইন নির্মাণ করবে বাংলাদেশ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি। এর ব্যয় রিলায়েন্স বহন করবে। ওই পাইপলাইন দিয়েই এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে সরবরাহ করা হবে। ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য দৈনিক ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি প্রয়োজন হবে। বাকি গ্যাস সরকার আন্তর্জাতিক বাজারদরে তাদের কাছ থেকে কিনে নেবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় দেশটির শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আদানী এবং রিলায়েন্স বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব নিয়ে আসে। আদানী গ্রুপের সাথে ওই সময় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলেও রিলায়েন্সের সাথে তা হয়নি। কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন রিপোর্ট না থাকায় ওই সময় চুক্তি হয়নি। ২৩ মে ব্যাংক ডাকাত সরকারের মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদনের পর এখন চুক্তি স্বাক্ষরের করবে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে বিনা টেন্ডারে ভারতের রিলায়েন্স গ্রূপকে কাজ দিয়ে দেয়ার পর এখন সবাই বুজতে পেরেছেন এক দিলে দুই পাখি মেরেছেন শেখ হাসিনা। সবই ছিল শেখ হাসিনার চালাকি। একদিকে হেফাজতে ইসলামের মন রক্ষা অপরদিকে মন রাখা করেছেন ভারতেএ হেফাজতে আওয়ামী গোষ্ঠীর।২৪ মে বুধবার বিনা টেন্ডারে ভারতের রিলায়েন্স গ্রূপকে কাজ দিয়ে দেয়ার পর এটি নিয়ে যাতে কোনো নেতিবাচক প্রচারণা না ছড়ায় এ কারণে পরদিন বৃহস্পতিবার রাতেই সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে বিনা টেন্ডারে ভারতের রিলায়েন্স গ্রূপকে প্রায় ৮১ হাজার কোটি টাকার কাজ দেয়ার খবরটি গণমাধ্যমে নেই বরং গণমাধ্যম দখল করে রেখেছে মূর্তি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন