Profile

শুক্রবার, ১৯ মে, ২০১৭

মাদ্রাসা ফাইনালে সেরার তালিকায় স্থান পাওয়া হিন্দু ছাত্রীকে সংবর্ধনা দিল এসআইও

নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, হাওড়া : সদ্য প্রকাশিত হল মাদ্রাসা ফাইনালের রেজাল্ট। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তা হ’ল সম্ভাব্য সেরার মেধাতালিকায় অমুসলিম ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি। মাদ্রাসার সাথে যে কেবলমাত্র মুসলিম সমাজই জড়িত নয় তা আরোও একবার প্রমাণ করে দিল এই কৃতী ছাত্রছাত্রীরা।

প্রশমা শাসমল, নিতান্তই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রী, হাওড়া জেলার একেবারে শেষপ্রান্তে উদয়নারায়ণপুর গ্রামের হরিহরপুরে বাড়ি। খলতপুর হাই মাদ্রাসা থেকে এ বছর হাই মাদ্রাসা পরীক্ষায় বসে সে। প্রত্যাশিত ভাবেই যথেষ্ট ভাল ফল করে এ বছরের মেধাতালিকায় উঠে আসে মেধাবী প্রশমা। আটশ’র মধ্যে ৭২৯ নম্বর পেয়ে সারা বাংলার সম্ভাব্য সেরার তালিকায় প্রশমা অষ্টম স্থান অধিকার করে, এবং জেলাভিত্তিক ফলাফলে হাওড়া জেলায় প্রথম স্থানে আছে সে। সামান্য একজন পঞ্চায়েত কর্মীর কন্যার এই শিখরে ওঠার আনন্দে আজ গোটা পরিবার তথা গোটা গ্রাম আনন্দে আত্মহারা। আনন্দিত প্রশমা জানায়, “হরিহরপুর গ্রামে একটি হাই স্কুল থাকলেও আমার বাবার ইচ্ছা ছিল আমি মাদ্রাসায় পড়ি, স্কুলের তুলনায় মাদ্রাসা আমার বাড়ির কাছেও বটে, আর ওখানকার বেশ কিছু শিক্ষক মহাশয়ের সাথে বাবার পরিচয়ও ছিল । তাই বাবা আমাকে ওখানেই ভর্তি করান। আমি সর্বদাই সম্মানীয় শিক্ষক মহাশয়দের থেকে পূর্ণ সহযোগীতা পেয়েছি।” মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে ইসলাম পরিচয় ও আরবী ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার সুযোগ হয় প্রশমার, যে সুযোগ এর আগে তার পরিবারের অন্য কেউ পায়নি । খলতপুর হাই মাদ্রাসা থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রশমা।
আদর্শবাদী ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া, হাওড়া জেলার পক্ষ থেকে আজ প্রশমার সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাতে যান জেলা সভাপতি ইমরান হাসান, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এস.আই.ও- জগতবল্লভপুর ব্লকের সেক্রেটারি মহম্মদ তালিব, এস.আই.ও কর্মী নবাব সেখ ও মিনহাজউদ্দিন। সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু মূল্যবান পুস্তক, প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী ও পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়, সাথে আগামী ভবিষ্যত যেন আরোও উজ্জ্বল হয় এই কামনা করা হয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন